সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে দেশের বিরুদ্ধে কথা বলছে, ষড়যন্ত্র করছে, সংবাদ সম্মেলন করছে, এতে কোনো কাজ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. আবদুল মতিন।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাই প্রধান’ শীর্ষক ছায়া সংসদে এ কথা বলেন তিনি।
এম এ মতিন বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) এত শক্তিশালী হলে কেন পালিয়ে গেলেন। জনগণ তাকে চায়নি বলেই পালাতে হয়েছে। তার আমলে প্রহসন হয়েছে, নির্বাচন হয়নি বলেই বিপ্লব হয়েছে।
আবদুল মতিন বলেন, অসংখ্য মানুষের রক্তপাত ও প্রাণহানি ঘটিয়েও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। এখনো রক্তের দাগ শুকায়নি। আওয়ামী লীগ কেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না, সেটা তাদের বুঝতে হবে। তবে নাগরিক হিসেবে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ভোট দিতে পারবে। আওয়ামী লীগ তাদের অপকর্মের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইলে, অনুতপ্ত হলে ক্ষমা পেতে পারে।
সাবেক এই বিচারপতি বলেন, প্রতিবেশী দেশ বলেছিল এদেশে কোনো সরকার বসতে পারবে না, কাজ করতে পারবে না। তারা শপথ নিয়েছিল এদেশের মানুষকে শান্তিতে রাখবে না। তাদের এ আশা দুরাশায় পরিণত হয়েছে। তাদের কোনো চাপেই কাজ হয়নি। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ব্যর্থ হলে জনগণের দীর্ঘ দিনের আকাঙ্ক্ষা ভেস্তে যাবে। নির্বাচন ভন্ডুল হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই। জনগণ সচেতন হলে নির্বাচন বানচালে কোনো বাধা ও ষড়যন্ত্রে কাজ হবে না
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, দেশের মানুষ নির্বাচন চায়। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে সাধারণ মানুষ। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারা দলটি নির্বাচন ভন্ডুল ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে । ১৪শ মানুষকে হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী পার্শ¦বর্তী দেশে অবস্থান করে দেশের বিরুদ্ধে নানারকম অপপ্রচার করছে। সম্প্রতি এক অডিও ভাষণে তাকে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে বলে মিথ্যা বয়ান দেন। যা মেটেই গ্রহণযোগ্য নয়। সেজন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাওয়া বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ অন্যান্য দল ও প্রার্থীদের এমন কোন কার্যক্রম করা উচিত হবে না যাতে পতিত শক্তি নির্বাচন ভন্ডুল করার অপচেষ্টা করতে পারে। বিগত তিনটি নির্বাচন ছিলো চরম বিতর্কিত ও গণতন্ত্র হরণের নির্বাচন। ভোটাধিকার লুন্ঠনের নির্বাচন। জনগণের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার নির্বাচন। এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হলে জাতি কলঙ্কিত নির্বাচনের কালিমা থেকে মুক্তি পাবে। জনগণের শাসন ফিরে আসবে। বৈষম্যহীন ও সম্প্রতির রাষ্ট্র তৈরি হবে। সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। সুশাসন ও জবাবদিহিতা ফিরে আসবে। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে এআই এর অপব্যবহারের মাধ্যমে গুজব ও ভুয়া ভিডিও অপতৎপরতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে।
“আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাই প্রধান” শীর্ষক ছায়া সংসদে তেজগাঁও কলেজের বিতার্কিকদের পরাজিত করে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’র বিতার্কিকগণ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সিনিয়ার সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক মশিউর রহমান খান, সাংবাদিক আফরিন জাহান ও সাংবাদিক জাকির হোসেন লিটন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।







