আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সাড়ে ১৫ বছরের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, এ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। যতখানি আমরা ভেবেছি, এটা তার চেয়েও বেশি। দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, দুর্নীতি, অনাচার, অযোগ্য মানুষদের দায়িত্ব দেওয়ার কারণে এই সর্বনাশটা হয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান এ কথা বলেন। নির্বাচনি বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর বিজয়ী দলগুলোর সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, এ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। যতখানি আমরা ভেবেছি, এটা তার চেয়েও বেশি। দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, দুর্নীতি, অনাচার, অযোগ্য মানুষদের দায়িত্ব দেওয়ার কারণে এই সর্বনাশটা হয়েছে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে কাজ করা ছাড়া উপায় নেই। এটা অতিক্রম করে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। কোনো পথ নাই। এগিয়ে যেতেই হবে আমাদের।’ এ সময় সবাইকে নিজের অবস্থান থেকে সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, নির্বাচন নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা ছিলো অনেক বেশি। এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের নির্বাচন ছিলো না। নাগরিক মর্যাদা পুন:প্রতিষ্ঠার নির্বাচন। রাষ্ট্রের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্বাচন। জাতিকে বিগত সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত কলঙ্কিত নির্বাচনের কালিমা থেকে মুক্ত করার নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে মানুষ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে ভোট দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ্য করছি বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের পর তিনি, তাঁর মন্ত্রীপরিষদ ও উপদেষ্টারা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা, হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বহুমুখী কর্মসূচীর বার্তা দিচ্ছেন। যা আমাদের আশাবাদী করছে। আমরা আশা করি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবগঠিত সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করবেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য দেন—স্টেট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান, অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান, অধ্যাপক ড. আফরোজা বেগম এবং অধ্যাপক সিক্তা দাস।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, প্রথম রানারআপ ইডেন মহিলা কলেজ এবং দ্বিতীয় রানারআপ তেজগাঁও কলেজ। শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয়েছেন ইডেন মহিলা কলেজের বিতার্কিক মাসনুন নাবিলাহ আলম।
পুরস্কার বিতরণে চ্যাম্পিয়ন দল পান ২ লাখ টাকা, প্রথম রানারআপ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপ ১ লাখ টাকা। এছাড়া সকল বিজয়ী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়। শ্রেষ্ঠ বক্তাকে ৫০ হাজার টাকা, ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
