Saturday, January 10, 2026

নির্বাচন ভন্ডুলের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে: মুনিরা খান



যারা নির্বাচন ভন্ডুলের অপচেষ্টা চালাতে চায়, তাদের প্রতিহত করতে হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ফেমার প্রেসিডেন্ট মনিরা খান। 

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে তিনি এসব কথা বলেন।

মুনিরা খান বলেন, নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে, নির্বাচন ঠেকিয়ে রাখা যাবে না তবে একটি ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যাহত করতে একটি মহল তৎপরতা চালাচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আসন্ন নির্বাচন ভন্ডুলের চেষ্টা হতে পারে এবং যারা এ ধরনের অপচেষ্টা চালাতে চায়, তাদের প্রতিহত করতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি ‘থ্রি এম’—মানি, মাসল ও ম্যানিপুলেশন—এই তিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার পাশাপাশি জনসচেতনতা অপরিহার্য। অন্তর্বর্তী সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও একটি ভালো নির্বাচনের জন্য জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।


তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা ও হাবিবুল আওয়াল সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যর্থতার দায়ে পদত্যাগ করতে পারতেন। তারা শপথ ভঙ্গ করে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন উপহার দিয়েছেন। 

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেবল প্রতীক দেখে নয়, ইশতেহার ও প্রার্থীর যোগ্যতা বিবেচনা করে ভোট দিতে হবে। তা না হলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বদলে ফ্যাসিবাদ আবারও ফিরে আসতে পারে।


স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে মনিরা খান বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে মোট ভোটারের ১ শতাংশের স্বাক্ষর নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ বিধান পরিবর্তন করা প্রয়োজন। 

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নে সব রাজনৈতিক দল সম্মত হলেও বাস্তবে কেউই তা অনুসরণ করেনি। জামায়াতে ইসলামী একজনও নারী প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।  

ছায়া সংসদের সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের রায়। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ প্রকাশের সুযোগ পাবে ভোটাররা। প্রকৃত ভোটের মাধ্যমে জাতি কলঙ্কিত নির্বাচনের কালিমা থেকে মুক্ত হবে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতির রাষ্ট্র গড়ে উঠবে—যেখানে সামাজিক ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। 


তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেবল নির্বাচন দিয়েই স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার অবসান সম্ভব নয়। সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে শুধু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যথেষ্ট হবে না।


হাসান কিরণ আরও বলেন, নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়। সাধারণ মানুষ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে স্বস্তি, নিরাপত্তা ও শান্তি চায়। তারা আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা প্রত্যাশা করে। মানুষের ন্যূনতম মৌলিক অধিকার বাস্তবায়িত হলেই জনগণ সন্তুষ্ট থাকবে।


ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকদের পরাজিত করে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা বিজয়ী হন। প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, মশিউর রহমান খান, জাকির হোসেন লিটন ও কাওসারা চৌধুরী কুমু। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।



Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.